প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ , ০৩:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘চলতি বছরেই বাংলাদেশে ফিরব’- শেখ হাসিনা

প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকার পর চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, নানা ষড়যন্ত্র কিংবা আইনি বাধা-কোনোটিই তাকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

শেখ হাসিনা জানান, তার এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসা নয়। বরং তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ হিসেবেই তার দেশে ফেরা জরুরি। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা সংকটের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক ঘটনা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন পরিস্থিতিও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাই এবারও সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ৭৭ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ বহুবার প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশবিরোধী কিছু শক্তি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে মানুষের মন থেকে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন মুছে ফেলা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দলের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বিপুল সংখ্যক মামলার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দলের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের সদিচ্ছা বা অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছেন, যা দলটির পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত বহন করছে।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত এসেছে। তার অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা-এসবই বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করে দেন। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও মন সবসময় বাংলাদেশেই পড়ে থাকে বলে জানান শেখ হাসিনা। বাবার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে ফিরে আসার অপেক্ষার সময়। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।