প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ভয়াবহ ধস নামল বাংলাদেশের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচটি ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে সফরকারীরা।
ম্যারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রান করেছিল। জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ ওভারে ৫৪ রানে গুটিয়ে যান।
একাই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দিলেন থম্পসন
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ধসের মূল নায়ক ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। মাত্র ১১ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা এই তরুণ পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।
থম্পসন শুরু থেকেই সঠিক লেংথে বল করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ভুল শট খেলতে বাধ্য করেন। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইনিংসকে দ্রুত ধসিয়ে দেন। তার ৮ উইকেটের শিকার হওয়ার পর বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে বড় কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন তানজিদ হাসান। তিনি করেন ২২ রান। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
প্রথম ইনিংসে মেহেদীর সেঞ্চুরি
অবশ্য ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ২৬৩ রান সংগ্রহ করে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলাররাও শুরুতে ভালো লড়াই করেন।
জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে টিগ উইলি ১৩০ রান করেন। জেক ডোরান করেন ৭৬ এবং প্যাটারসন করেন ৫৩ রান। তাদের ব্যাটিংয়ে ভর করে অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান করে বাংলাদেশের ওপর ৯২ রানের লিড নেয়।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ চারটি উইকেট নেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে থম্পসনের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
টেস্ট সিরিজের আগে উদ্বেগ
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা দলের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নতুন বলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের টেকনিক ও ধৈর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে মূল টেস্ট সিরিজের ফলাফল অনুমান করা যাবে না। বাংলাদেশ এই ম্যাচ থেকে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে মূল সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে ১৩ আগস্ট। প্রস্তুতি ম্যাচে এমন বড় পরাজয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্য প্রমাণ করা।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও দলের এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সতর্ক সংকেত হয়ে থাকল এই প্রস্তুতি ম্যাচ। একদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরি ইতিবাচক দিক, অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়া দলের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া মূল টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।