প্রকাশিত: ০৭ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:০৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববাজারে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে উঠেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার স্পট স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্সে প্রায় ৪ হাজার ২৮৬ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।
স্বর্ণের এই উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি তেলের দাম কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন। তেলের দাম কমলে সাধারণত মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন আসে।
স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। অন্যদিকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে কিছু ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে চাপ কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের জন্য ৪ হাজার ডলার প্রতি আউন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনস্তর হিসেবে কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও ওপরে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে বাজার দ্রুত ঘুরে যেতে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে অলংকারের দাম সমন্বয়ের সম্ভাবনা থাকে। ফলে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কিনতে আগ্রহীদের নজর থাকে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধির দিকে।