কাজী রাহাত শামস

প্রকাশিত: ০৭ আগষ্ট ২০২৬ , ১০:১০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের শহরগুলো কি নতুন জলবায়ু সংকটের দিকে

বাংলাদেশের শহরগুলো দ্রুত বড় হচ্ছে। বাড়ছে মানুষ, ভবন, সড়ক ও যানবাহন। কিন্তু একই সঙ্গে অনেক শহরে কমছে খোলা জায়গা, জলাধার ও সবুজ। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। ফলে নগরজীবনে তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরকে নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে নগর বন্যা ও অতিরিক্ত তাপকে বড় জলবায়ু ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলোতে দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা, ঘন আবাসন এবং সীমিত নাগরিক সুবিধার কারণে ঝুঁকি বেশি।

ঢাকার আশপাশের দ্রুত নগরায়িত এলাকাগুলো নিয়েও সাম্প্রতিক গবেষণায় ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক নিষ্কাশনব্যবস্থার ওপর চাপ এবং বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।

শুধু রাজধানী নয়, উপকূলীয় শহরগুলোর পরিস্থিতিও উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, বন্যা, নদীভাঙন ও অতিরিক্ত তাপ—সব মিলিয়ে এসব এলাকার নগরজীবন নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, উন্নত পানি নিষ্কাশন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা কি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহর পরিকল্পনা করছি?

শুধু নতুন সড়ক বা ভবন নির্মাণ করলেই আধুনিক শহর তৈরি হয় না। একটি বাসযোগ্য শহরের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত গাছপালা, খোলা জায়গা, জলাধার, কার্যকর ড্রেনেজ এবং পরিকল্পিত আবাসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শহর পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকি এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়; এটি নগর উন্নয়নের কেন্দ্রীয় বিষয় হওয়া দরকার। কারণ আজকের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তই আগামী দিনের শহরবাসীর জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।