ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ , ০৬:০৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সম্প্রীতির বার্তা ছড়াতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের শান্তি যজ্ঞ অনুষ্ঠিত

বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রত্যাশায় রাজধানীর শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পবিত্র শান্তি যজ্ঞ-২০২৬’। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনাতনী শিক্ষার্থীদের সংগঠন সনাতনী স্টুডেন্টস ইউনিটি ফোরাম (ডিসিইউএসইউএফ) এই শান্তি যজ্ঞের আয়োজন করে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় শুরু হয় এ আয়োজন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা যজ্ঞসহ পুরো অনুষ্ঠান ছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়। পরে বৈদিক যজ্ঞ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় আয়োজনের বিভিন্ন পর্ব।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি যজ্ঞে প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাত কলেজের প্রায় ১৫০ জন সনাতনী শিক্ষার্থী এবং অর্ধশতাধিক ভক্ত ছিলেন। তিনজন পুরোহিতের পরিচালনায় সম্পন্ন হয় যজ্ঞের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রতিমোহন বিশ্বাস।

আয়োজকরা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবি নজরুল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুসমিতা সরকার বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় এই সমন্বিত শান্তি যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যজ্ঞ শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি শান্তি, ঐক্য, শুভবোধ ও মানবকল্যাণের প্রতীক। আমরা প্রার্থনা করেছি, যেন পরমেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করেন এবং সবার জীবনে শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সফলতা বয়ে আনেন।”

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়াবে। একই সঙ্গে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তৈরিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।