প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক আলোচনায় ওমান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রণালির নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল। সম্ভাব্য সমঝোতায় কীভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
হরমুজে স্থিতিশীলতা ফিরলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা কমলে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ কমবে এবং পরিবহন ব্যয়ও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই এই নৌপথে নিরাপদ ও নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত হলে এশিয়ার অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উভয়ের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।