আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এখন সময়

প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ , ০৭:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

অভিবাসী আটকেই বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন enforcement জোরদারের সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসীদের আটক রাখার অবকাঠামোও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর এর সঙ্গে বাড়ছে বেসরকারি কারাগার ও আটককেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন আটক কার্যক্রম থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বর্তমানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে আটক রাখছে। সরকারের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আটককেন্দ্রের চাহিদা বাড়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির সুযোগও তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো মোট ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ঘোষণা করেছে। এর বাইরে CoreCivic সাম্প্রতিক সময়ে চারটি স্থাপনা সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার নিট অর্থ পেয়েছে। কোম্পানিটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিনিয়োগকারীদের জানান, এসব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি বেডের গড় মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ডলার হয়েছে।

অভিবাসন আটক ব্যবস্থার সম্প্রসারণের আরেকটি উদাহরণ দেখা গেছে মিনেসোটায়। সেখানে বন্ধ হয়ে থাকা একটি কারাগার ICE-এর অভিবাসন আটককেন্দ্র হিসেবে পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করেছে CoreCivic। পাঁচ বছরের একটি চুক্তির আওতায় স্থাপনাটি পরিচালিত হবে এবং কোম্পানিটির হিসাবে এটি বছরে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।

এদিকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কে বেসরকারিভাবে পরিচালিত Delaney Hall আটককেন্দ্র নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে এক অভিবাসীর মৃত্যুর পর রাজ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করেছে। কেন্দ্রটি GEO Group পরিচালনা করে। তদন্তে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যর্থতা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিবাসন আটক ব্যবস্থার বিস্তারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক নজরদারিও বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ICE-এর নজরদারি ব্যবস্থায় প্রায় ৫৪ হাজার অভিবাসীকে GPS-যুক্ত গোড়ালির মনিটর পরানো হয়েছে। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ হাজার। মনিটরিং ব্যবস্থার এই পরিবর্তনও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে।

অভিবাসন আটক নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্নগুলোর একটি হলো—মানুষকে আটক রাখার ব্যবস্থা যত বড় হচ্ছে, এর আর্থিক সুবিধা কারা পাচ্ছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, আটককেন্দ্রের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মুনাফার প্রণোদনা থাকলে মানবিক বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তারা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আটককেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সেবা পরিচালনা করছে এবং ফেডারেল চুক্তির আওতায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ICE-এর অভিযান, আটক ও নির্বাসন কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে আটককেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো হলে অভিবাসন enforcement আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে কোনো ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতি বা আইনি অবস্থার ক্ষেত্রে সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনকে ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়। যাদের ICE-সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা রয়েছে, তাদের অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটক ব্যবস্থা এখন শুধু রাজনৈতিক বা মানবাধিকার ইস্যু নয়; এটি একটি বড় অর্থনৈতিক খাতেও পরিণত হচ্ছে। আটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি কারাগার কোম্পানিগুলোর আয়, নতুন চুক্তি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ—সবকিছুই এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে।