এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

১৬ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন

২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছর নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায়নি স্পেন। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিয়েছে পরের পর্বে।

ম্যাচে স্পেনের জয়ের নায়ক ছিলেন মিকেল ওইয়েরজাবাল। তিনি জোড়া গোল করেন। আর বাকি গোলটি আসে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর পা থেকে। আক্রমণ ও বল দখলে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখানো স্পেন পুরো ম্যাচেই অস্ট্রিয়াকে চাপে রাখে।

প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওইয়েরজাবাল। বাঁ দিক থেকে মার্ক কুকুরেলার নিখুঁত পাস পেয়ে সহজেই বল জালে পাঠান তিনি। ২০১০ সালের ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল স্পেনের কোনো খেলোয়াড়ের করা প্রথম গোল। ২০১৮ সালে রাশিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একমাত্র গোলটি এসেছিল প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী ভুলে।

এর আগে অবশ্য একবার উল্লাসে মেতেছিল স্পেন। লামিন ইয়ামালের কর্নার থেকে কুকুরেলা বল জালে পাঠালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) গোলটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে স্পেনের এক খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষকের ওপর ফাউল করেছিলেন।

প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনার ফ্রি-কিক এবং পরে লামিন ইয়ামালের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক অ্যালেক্সান্ডার শ্লাগার। ফলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশরা।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। অ্যালেক্স বায়েনার দারুণ ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার।

পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রিয়া কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। বদলি হিসেবে নামা সাশা কালাইজিচ মার্সেল সাবিতজারের ক্রস থেকে হেড নিলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ায় স্পেন। আবারও কুকুরেলার পাস থেকে বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওইয়েরজাবাল। এরপর আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রিয়া।

৩-০ গোলের দাপুটে এই জয় শুধু স্পেনকে পরবর্তী পর্বে তুলেইনি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৬ বছরের জয়খরারও অবসান ঘটিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল।