ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক ভাবে লড়বে এনসিপি, প্রার্থী বাছাইয়ে থাকছে চমক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক জোটের ব্যানারে নয়, বরং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, তৃণমূলে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয়ের সুযোগ পুরোপুরি নাকচও করা হচ্ছে না।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং এখন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে এখনো কোনো কার্যকর আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচনের আগে আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আরও কয়েকটি সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়েও শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই বিবেচনায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সব ধরনের স্থানীয় সরকার পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেবে এনসিপি। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিএনপি কিংবা অন্য দল থেকে বহিষ্কৃত বা দলত্যাগী কয়েকজন নেতার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছে।

দলটির নেতাদের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নতুন নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। এতে তৃণমূলে সংগঠনের বিস্তার আরও বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা উত্তরে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়েছে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামকে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে জামায়াত। বিষয়টি নিয়ে জোটসংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা তৈরি হলেও দুই দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো যৌথ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের প্রচার-প্রচারণা চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তার মতে, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিটি এলাকায় এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।