ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

উন্নয়নে বৈষম্য হলে ‘বাঘের গর্জন’ করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নয়ন বরাদ্দে সরকার কোনো ধরনের বৈষম্য করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এর বিরুদ্ধে ‘বাঘের গর্জন’ দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন বরাদ্দ বেশি পাচ্ছেন, অথচ বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অতীতেও এমন বৈষম্য ছিল, তবে এখন আর তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, নেত্রকোনা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। জেলার সাদামাটির পাহাড় ও সিলিকা বালুর মতো মূল্যবান সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও শিল্প প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, দেশ থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংসদে একজন সদস্য নিজেই স্বীকার করেছেন কোন সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করে, অথচ তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা থাকলে মাদকের প্রবেশ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ভারত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা করছে। এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিহত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি দেশপ্রেমিক জনগণও প্রস্তুত রয়েছে। দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি সরকারই দাবি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সেই দাবির মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চল টিমের সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন এবং পৌর জামায়াতের আমির ডা. আবুল হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় নেতারা।