ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

তফসিলের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী দেবে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করলেও এখনই কোনো প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দিচ্ছে না বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য, তফসিল ঘোষণার পর আইনগত বিধান অনুসরণ করে স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এবার বিদ্রোহী প্রার্থীর ঝুঁকি এড়াতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দল আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চায় না নেতৃত্ব। তাদের মতে, যেহেতু নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে হবে এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না, তাই আইন মেনে সময়মতো সমর্থিত প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলীয় নেতাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাই আগেভাগে কাউকে সমর্থন দিলে অভ্যন্তরীণ বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শেষ করা হলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছেন। অনেকেই পোস্টার, ব্যানার ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী বিএনপি-সমর্থিত কয়েকজন প্রশাসকও নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময়ের মধ্যে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। সরকার তফসিল ঘোষণা করলেই দল নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। বর্তমান দুই সিটি প্রশাসকও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশী যুবদল নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন এবং দল তার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে দলের অনেক নেতাকর্মী আগ্রহী। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনা পাওয়ার পরই একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। কে নির্বাচন করবেন, সে সিদ্ধান্ত দলই নেবে।

এদিকে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার দাবি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি আগেভাগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় কিছু এলাকায় বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। একই পদে একাধিক নেতা সক্রিয় থাকায় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তারা।