প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। অধিকারকর্মী ও তিব্বতপন্থী কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জরুরি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে তারা।
নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব তিব্বত নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন বলে দাবি করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে তিব্বতের স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে আবেদন জানানোর পর তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউইয়র্ক জানিয়েছে, রাংজেন পেশায় একজন উবারচালক ছিলেন। ঘটনার সময় তার হাতে একটি তিব্বতি পতাকা ছিল। তার পরিচিত আরেক উবারচালক লোবসাং পালজরের ভাষ্য, চীনা সরকারের বিভিন্ন নীতিনিষেধ ও তিব্বতে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন রাংজেন।
তিব্বতি অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, চীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে বহু তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০টিরও বেশি তিব্বতি আত্মাহুতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ঘটনা ঘটেছে নির্বাসিত তিব্বতিদের মধ্যে।
তবে রাংজেনের মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিউইয়র্ক পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।