প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হরমুজ প্রণালি নিয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াডেফুলের বক্তব্য বাস্তবতাকে বিকৃত করেছে এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থানের প্রতিফলন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি এ বক্তব্যকে জার্মান সাহিত্যিক ইয়োহান ভলফগ্যাং ফন গ্যোটের বিখ্যাত নাটক ফাউস্ট-এর ‘মেফিস্টোফিলিস’ চরিত্রের প্রতারণামূলক ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেন।
বাঘেই অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে জার্মানির ভূমিকার জন্য বার্লিনকে একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তার ভাষায়, কঠোর বক্তব্য দিয়ে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধ কিংবা সংঘাতে নিজেদের সম্পৃক্ততার দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সম্প্রতি জোহান ওয়াডেফুল বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা সেবা ফি আরোপ করা উচিত নয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রয়োজন হলে সেই ব্যয় ইরানকেই বহন করতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার বিনিময়ে তেহরানকে কোনো ধরনের প্রণোদনা দেওয়া উচিত হবে না।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য কোনো শর্ত বা অর্থ আদায় ছাড়াই উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন। তবে ইরান তার এ বক্তব্যকে দেশের সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ইরানের সার্বভৌম দায়িত্বের আওতায় পড়ে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির দায়িত্ব পালন করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ইরানের। এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইরান জানিয়েছে, নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তারা একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সামুদ্রিক সেবার বিপরীতে নির্ধারিত ফি আদায়ের সুযোগ রয়েছে। তেহরানের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইনসম্মত একটি সার্বভৌম অধিকার এবং ওমানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ এ ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নীতির সঙ্গে একাত্ম থেকেছে। এখন যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘মাইন অপসারণ’ ও ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতের’ মতো যুক্তি তুলে নতুন ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করছে।
তেহরানের ভাষ্য, আঞ্চলিক জলসীমা ও নিরাপত্তা বিষয়ে পশ্চিমা শক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ওয়াডেফুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বৈত নীতির’ আরেকটি উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেছে ইরান।