প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
স্বাগতিক হওয়ায় প্রত্যাশার চাপ ছিল অনেক। তবে শেষ ষোলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং শুরু থেকেই বেলজিয়ামের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে অসহায় দেখিয়েছে মার্কিনদের। শেষ পর্যন্ত সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে ৪-১ গোলের বড় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি।
মঙ্গলবারের ম্যাচে বেলজিয়ামের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন চার্লস ডি কেটেলার। দুটি গোল করে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। বাকি দুটি গোল করেন হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকু। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মালিক তিলমান। ওই গোল কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে সমতা ফেরালেও পরে আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।
পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণ, দুই দিকেই এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের একের পর এক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য প্রশংসিত যুক্তরাষ্ট্র এদিন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ থেকে অনেকটাই দূরে ছিল।
ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তাকে দলে ফেরানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত মাঠের খেলায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বালোগানকে নিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশার বিদায়ই দেখতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
এই জয়ের মাধ্যমে গত ১২ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল বেলজিয়াম। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রাখল তারা।
অন্যদিকে, টানা তিনটি জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন থেমে গেল এখানেই। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা পূরণ হলো না তাদের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে এটি মার্কিনদের টানা সপ্তম পরাজয়ও।
এখন সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ চারে খেলবে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর বিপক্ষে।