প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তুরস্কের কাছে বিক্রি না করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার মতে, আঙ্কারাকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং ইসরায়েলের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সোমবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তুরস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হলেও দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের নীতিগত অবস্থান ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে তুরস্কের বিরুদ্ধে সাইপ্রাসের একটি অংশ দখলে রাখা, গ্রিসকে হুমকি দেওয়া এবং জেরুজালেম নিয়ে আগ্রাসী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত এবং তাদের নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রবণতা দেখা যায়।
তার ভাষ্য, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে এই ভারসাম্য ইসরায়েলের আকাশসীমায় কৌশলগত সক্ষমতা এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির মাধ্যমে বজায় রয়েছে।
হামাসের প্রতি তুরস্কের অবস্থান এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার বিষয়টিও আঙ্কারাকে এফ-৩৫ না দেওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে যে আলোচনা চলছে, তা নাকচ করে দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। আমরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র।"
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য দুই নেতার সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, "প্রেসিডেন্টের নিজস্ব বক্তব্য দেওয়ার ধরন আছে, আমারও আছে।"
তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠক হলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-লেবানন শান্তি চুক্তির বাস্তবায়নসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।