প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে লিবিয়াকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির দুটি সূত্রের বরাতে লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাত জানিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছে ইসলামাবাদ। উদ্যোগটি সফল হলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এই উদ্যোগের খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে লিবিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভিযানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটি কার্যত পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, লিবিয়ায় তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত এবং এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবও এই উদ্যোগকে সমর্থন দিচ্ছে। সূত্রগুলোর দাবি, গত বছরের শেষ দিক থেকেই এই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে এবং লিবিয়ার উভয় পক্ষই পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা কামনা করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার রাজনৈতিক পুনর্মিলন সহজ হবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন আয়োজনের কাঠামো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং তেল আয়ের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি শক্তির ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থও সমাধানের পথে বড় বাধা।
ব্রিটেনভিত্তিক থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর সহযোগী গবেষক জালেল হারচাউই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়া প্রশ্নে সক্রিয় হলেও তারা যে রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট ও সুসংহত নয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৬ মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটির (জিএনইউ) প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দিবেইবাহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলভিত্তিক লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) উপ-কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারেন।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, এলএনএ প্রধান খলিফা হাফতার জাতীয় বাজেট তদারকির দায়িত্ব পাবেন। বর্তমানে তাঁর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে লিবিয়ার বৃহৎ তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ। পাকিস্তানের একটি সূত্রের ভাষ্য, এই রাজনৈতিক সমঝোতা কার্যকর রাখতে ইসলামাবাদ সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
গত মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর হাফতার ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, লিবিয়ার বিভাজন দূর করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে রয়টার্স জানায়, পূর্বাঞ্চলভিত্তিক এলএনএর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। সেই আলোচনায় জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের সম্ভাবনাও উঠে আসে, যদিও লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। একই সময়ে পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক জিএনইউও পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।