ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

হরমুজে ট্যাংকারে হামলার জেরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা

হরমুজে ট্যাংকারে হামলার জেরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক নৌযানে হামলার জবাব এবং এর জন্য ‘চড়া মূল্য’ আদায় করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তারা একটি ‘শক্তিশালী সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দুই দেশের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান পরিস্থিতির জবাবে প্রয়োজনীয় ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এর দায় ইরানকেই বহন করতে হবে এবং এর পরিণতিও তাদের ভোগ করতে হবে।

হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশ কাতার ও সৌদি আরব। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের পতাকাবাহী একটি করে ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি বা তার আশপাশের এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে। তারা এ ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে।

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেয়। গত মাসে দুই দেশের সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও জ্বালানি পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগে অনুমোদিত লেনদেনগুলো ১৭ জুলাই পর্যন্ত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।

এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ছাড় প্রত্যাহার সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অসৎ উদ্দেশ্য ও অবিশ্বস্ততার আরেকটি প্রমাণ। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।