এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলা ট্রাম্পের নতুন হুমকি, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবার রাতেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক হামলা চালানো হবে।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে আমি আগেই সতর্ক করে দিচ্ছি। আজ রাতেই তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন ও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।’

এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, এই অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর নৌঘাঁটিসহ ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার সময় বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মার্কিন হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান অভিযোগ করেছে, এই অভিযান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া ৬০ দিনের সাধারণ ছাড় বাতিল করেছে। তেহরানের দাবি, এই সিদ্ধান্তও যুদ্ধবিরতির চেতনার পরিপন্থী এবং ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বর্তমান সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দায়ী।

অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষিত রাখতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি আত্মরক্ষামূলক ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা রক্ষার অংশ।

পরিস্থিতির আরও অবনতি আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো দেশ যেন তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্রদের ব্যবহারের সুযোগ না দেয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট দেশকে আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। হামলার উৎস ও পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।