প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশীয়ভাবে সামরিক ড্রোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর বগুড়ায় বিমান বাহিনীর জন্য মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম সংযোজনের প্রকল্পগুলোকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে 'ফাস্ট ট্র্যাক' ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী এক দশকে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে একটি সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন) প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নতুন অবস্থান তৈরির দিকেও এগিয়ে যেতে পারে।