ভাষা নির্বাচন / Select Language
-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে শনিবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তার এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে দুই মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অচলাবস্থা আরো ঘনীভূত হয়েছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রনিল বিক্রমাসিংহে ও মাহিন্দা রাজাপাকসে উভয়ই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করছেন। খবর এএফপি’র।
বিরোধীরা একে অবৈধ পদক্ষেপ হিসেবে এর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘সিরিসেনার মনোনীত প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে বর্তমান পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবে না বলে তিনি শুক্রবার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে জানুয়ারিতে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।’
বিক্রমাসিংহে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর দুই সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে রাজাপাকসের ক্ষমতার লড়াই চলে আসছে। দেশটির চলমান অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্বীপরাষ্ট্রটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিসেনা এক অধ্যাদেশ জারি করে শ্রীলংকার ২২৫ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর আগে নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্তের বিরোধীতার আশঙ্কায় পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্রমাসিংহে এর প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেননি। তবে তার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) জানিয়েছে, ‘তারা সিরিসেনার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবে।’
ইউএনপি টুইটারে জানায়, ‘প্রেসিডেন্টের এই পার্লামেন্টে ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়টি অবৈধ এবং এটি সংবিধান পরিপন্থী। আমরা দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
দলটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।’ সিরিসেনা পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের মুখে পড়েছিলেন।
ওয়াশিংটন সিরিসেনার সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শ্রীলংকার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এর ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।’
সিরিসেনার ইউনাইটেড পিপল’স ফ্রিডম এলাইয়েন্স (ইউপিএফএ) আস্থা ভোটে জয়লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপি’র সমর্থন পায়নি বলে স্বীকার করেছে।