প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশি কানাডীয় নির্মাতা ওয়াহিদ ইবনে রেজার স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘আফটার আস’ কানাডার মর্যাদাপূর্ণ লিও অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছে। বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যানিমেশন প্রযোজনাকে পেছনে ফেলে চলচ্চিত্রটি সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রামের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
গত ৪ ও ৫ জুলাই কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত হয় লিও অ্যাওয়ার্ডসের এবারের আসর। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই পুরস্কার ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, অ্যানিমেশন ও ডিজিটাল কনটেন্টের সেরা কাজকে সম্মান জানিয়ে আসছে। এবার দেড় হাজারের বেশি জমা পড়া কাজের মধ্য থেকে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
ওয়াহিদ ইবনে রেজা পরিচালিত ‘আফটার আস’ চারটি বিভাগে মনোনয়ন পায়। এর মধ্যে সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম, সেরা আর্ট ডিরেকশন এবং সেরা সাউন্ড ডিজাইন বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয় চলচ্চিত্রটি।
সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম বিভাগে ‘আফটার আস’-এর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ‘লেগো: ডিজনি ফ্রোজেন’, ‘লেগো মার্ভেল অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘স্নুপি প্রেজেন্টস’, ‘ডায়েরি অব আ উইম্পি কিড’ এবং হলিউড অভিনেতা অ্যান্ডি সার্কিসের কণ্ঠ দেওয়া একটি অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এসব প্রযোজনাকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হওয়ায় চলচ্চিত্রটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মাত্র ৫ মিনিট ৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘আফটার আস’ নির্মিত হয়েছে কানাডার ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ডের প্রযোজনায়। মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পর পৃথিবীর এক কল্পিত ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এর কাহিনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রকৃতির ভেতর একটি নেকড়ে ও একটি উলভারিনের যাত্রার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রকৃতির পুনর্জন্ম এবং টিকে থাকার লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।
পুরস্কার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওয়াহিদ ইবনে রেজা শৈশবের একটি স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় একটি বনভোজনের খেলায় জিততে না পারলেও মা তাকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি খেলনা গিটার দিয়েছিলেন। পরে সেটিও ফেরত দিতে হয়েছিল। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি রসিকতার সুরে লেখেন, পুরস্কারের কথা মনে হলেই আগে সেই ঘটনাটিই মনে পড়ে।
তিনি আরও লেখেন, চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে তিনটিতে পুরস্কার অর্জন পুরো দলের জন্য বড় স্বীকৃতি। নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় তিনি অনুভূতি প্রকাশ করেন, ‘নট ব্যাড, নট ব্যাড অ্যাট অল।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করার পর চলচ্চিত্র নির্মাণে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যান ওয়াহিদ ইবনে রেজা। পরে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও অ্যানিমেশন শিল্পে কাজের সুবাদে তিনি ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘রিক অ্যান্ড মর্টি’, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ এবং ‘হোটেল ট্রান্সিলভানিয়া’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অ্যানিমেশন ‘সারভাইভিং ৭১’ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়।