এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ন্যাটো-রাশিয়ার সংঘাতের আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের কঠোর অবস্থান এবং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পশ্চিমা উদ্যোগ ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করে রাশিয়াকে কোনো শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে না। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া আরও এলাকা দখল করে নিজেদের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সমুদ্রবন্দর লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে রাশিয়াকে দুর্বল করা সম্ভব নয় এবং ইউক্রেনকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য, এর ফলে ইউক্রেন ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। তবে নিরাপত্তার কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের পরিবর্তে জার্মানি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে উৎপাদিত হতে পারে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পুতিন ন্যাটোভুক্ত বাল্টিক অঞ্চল বা রোমানিয়ার কোনো সামরিক স্থাপনায় সীমিত হামলার পথ বেছে নিতে পারেন। এমন কোনো পদক্ষেপ ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ রাশিয়ার সেনা। এত বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে এখন রাজনৈতিক ও সামরিক মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন পুতিন।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়লেও উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা ন্যাটো ও রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতে রূপ নেবে, সেই আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।