প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রশাসনিকভাবে সহজ করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্থাপনের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই পদক্ষেপে প্রতিটি ভোটকক্ষে আগের তুলনায় বেশি ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতি বহাল থাকলেও ভোটকক্ষ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখা হবে। আগে এই সীমা ছিল প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ।
একই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও। পূর্ববর্তী নীতিমালায় একটি পদে উপনির্বাচনের জন্য প্রতি ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের বিপরীতে একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত ছিল। নতুন নির্দেশনায় সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে, অর্থাৎ প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ করা হবে।
নতুন নীতিমালায় ভোটগ্রহণের গতি বাড়াতে এবং ভোটারদের অপেক্ষার সময় কমানোর লক্ষ্যেও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে একাধিক ভোটার একই সময়ে ব্যালট প্রস্তুতের কাজ করতে পারেন।
তবে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো বিধান অপরিবর্তিত রেখেছে। সেই অনুযায়ী, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন বাধ্যতামূলক থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতি ও ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে একটি ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিবর্তন নির্বাচনী অবকাঠামোর ব্যবহার আরও দক্ষ করতে পারে। তবে একই ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানোয় ভোটের দিন ব্যবস্থাপনা, ভোটার সেবা এবং ভোটগ্রহণের গতি কতটা কার্যকর থাকে, তা ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই স্পষ্ট হবে।