প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে অতীতের কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচালিত তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘এনকাউন্টার’-এ নিহত ব্যক্তিদের সরকারি তথ্য প্রকাশের দাবিতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের কাছে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। ১৪ দিনের মধ্যে চাওয়া তথ্য প্রকাশ না করা হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা অনুরূপ অভিযানে মোট কতজন নিহত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ঠিকানা এবং প্রতিটি ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া কোন বাহিনীর অভিযানে মৃত্যু ঘটেছে, অভিযানের নেতৃত্বে কে ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের নাম, পদবি ও কর্মস্থলের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার এফআইআর, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা বিভাগীয় তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি বা বিচারিক তদন্তে কোনো ঘটনাকে বেআইনি বা বিচারবহির্ভূত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয়, প্রশাসনিক বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থাও জানাতে হবে।
এ ছাড়া নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন বা অন্য কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিরোধে সরকার কী ধরনের নীতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার গ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য প্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন বিষয়টির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।