এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৪:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা এবং দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে প্রায় নিশ্চিত অবস্থানে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের এমপিদের প্রথম দফার মনোনয়ন গণনায় তিনি বিপুল সমর্থন পেয়েছেন, যা তাকে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

প্রথম দফার গণনায় ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩২২ জন বার্নহামের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দিতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন এমপি সংসদে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানাবেন। ফলে আগামী সপ্তাহেই তাকে লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহাম কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও পার্লামেন্টে ফিরে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার এই উত্থানকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে বার্নহাম তার প্রতি আস্থা রাখায় লেবার এমপিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দলীয় সহকর্মীদের এই সমর্থন প্রমাণ করে ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্র ওয়েস্টমিনস্টার থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সারা দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার।

গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফল এবং বার্নহামের উপনির্বাচনে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বার্নহাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই স্টারমার দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের দৌড়ে থাকতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। তবে বার্নহাম ৩২৩ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে সেই সংখ্যা অর্জন করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি দল-সংশ্লিষ্ট ৩১টি সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের অন্তত তিনটির সমর্থনও প্রয়োজন, যা কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বার্নহামের পথ আরও সহজ হয়ে যায়। ফলে ২০১০ ও ২০১৫ সালে নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া এই রাজনীতিক এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

তবে দলের ভেতরে কেউ কেউ তার ভবিষ্যৎ সরকার ও নীতিগত পরিকল্পনা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনস্টার ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় রাজনীতির বাইরে থাকায় বর্তমানের অনেক নতুন এমপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী সোমবার দলীয় এমপিদের সামনে তিনি তার নীতিগত পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

ইতোমধ্যে ভবিষ্যৎ সরকারের কিছু অগ্রাধিকারের কথাও জানিয়েছেন বার্নহাম। তিনি ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি আঞ্চলিক ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে আবাসন, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া যায়। একই সঙ্গে পানি ও জ্বালানি খাতকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বার্নহাম। গাজা যুদ্ধের বিষয়ে লেবার পার্টির আগের অবস্থানের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বার্নহামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, তিনি দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য এবং দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হবেন।