প্রকাশিত: ০২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে আবারও সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জোর দিয়ে জানায়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি।
আলোচনায় দুই দেশ নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ এবং যৌথ কমিটির বৈঠক পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হয়। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, সরাসরি নৌপরিবহন সংযোগ, এলএনজি আমদানি এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, সীমান্ত যোগাযোগ ও বাণিজ্যসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতও দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী জনগণ উপকৃত হবে। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় খাতে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষের মতে, এ ধরনের সংযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে, পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও নতুন গতি পাবে।
বৈঠক শেষে উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।