প্রকাশিত: ০২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৪১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সদ্য কার্যকর হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত এফটিএ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তাদের মূল্যায়ন, এসব সুবিধা সত্ত্বেও বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানকে অল্প সময়ে টপকে যাওয়া ভারতের জন্য সহজ হবে না।
ভারতের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মতিলাল ওসওয়ালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে আসায় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের শুল্ক ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মার্কিন বাজারে পোশাকের চাহিদাও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বিক্রি মাসভিত্তিক এবং বছরভিত্তিক উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের নতুন অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
এদিকে, গত ১৫ জুলাই কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাকের ওপর ৮ থেকে ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতের অংশীদারত্ব আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকা ভারত-ইইউ এফটিএ ইউরোপীয় বাজারেও ভারতকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে।
তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের এই অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এখনো বাংলাদেশ। কারণ, কম শ্রম ব্যয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। দেশটিতে শ্রমিকের মজুরি ভারতের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম। যেহেতু পোশাক উৎপাদনের মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ শ্রম ব্যয়, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ এখনো দামের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন বড় পরিসরে উৎপাদন করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এই দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী। দেশের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকদের অধিকাংশই বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও সরবরাহে সক্ষম। বিপরীতে ভারতে একই মানের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে, ভারতের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সমন্বিত টেক্সটাইল সরবরাহ ব্যবস্থা। তুলা উৎপাদন থেকে সুতা, কাপড় এবং পোশাক উৎপাদন পর্যন্ত পুরো মূল্য শৃঙ্খল দেশটির ভেতরেই গড়ে উঠেছে। এই সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
মতিলাল ওসওয়ালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের রাজস্ব বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবধান কমাতে ভারতকে আরও বড় পরিসরে নতুন বিনিয়োগ করতে হবে। তাদের মতে, বাণিজ্য চুক্তিগুলো ভারতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও কম উৎপাদন ব্যয়, বৃহৎ রপ্তানি সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের বাজার অভিজ্ঞতার কারণে বিশ্ব পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ এখনো অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবেই রয়েছে।