প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ার ওপর জনমত গ্রহণের জন্য মাত্র এক দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা এই সময়সীমাকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সরকার নতুন করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২৭ জুলাই আইনের খসড়া প্রকাশ করে পরদিনের মধ্যে মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর পরই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে আসে।
সংস্থাটির মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন নিয়ে ভুক্তভোগী, মানবাধিকারকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণের জন্য এক দিনের সময়সীমা যথেষ্ট নয়। তারা সময়সীমা অন্তত দুই সপ্তাহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে খসড়াটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদনের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়নের পথে হাঁটছে। নতুন খসড়ায় আগের অধ্যাদেশে থাকা ‘সুরক্ষা’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিবর্তে পুলিশের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মহলের মতামত পর্যালোচনা করে আইনটির চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে এটি সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনটির ইতিবাচক দিক হিসেবে গুমকে একটি স্বতন্ত্র ও চলমান ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নির্দেশদাতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গুমের ঘটনা আড়াল করার সুযোগ না রাখার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ায় আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশে গুমের মতো মানবাধিকার-সংবেদনশীল বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকদের মত।