ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের শিল্প খাতে গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত কার্যকর সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গ্যাস সংকট নিরসনে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম বৈঠকে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, শিল্প খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

এর আগে গত ২২ জুলাই বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বস্ত্রশিল্পে গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে। ওই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতেই একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিল্প খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে বিটিএমএ সভাপতি জানান, দীর্ঘদিনের নীতিগত ও সরবরাহগত সমস্যার কারণে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ সংকট সমাধানে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বন্ধ বা আংশিকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা নির্ধারণে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতির কারণে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সরকারকে পৃথক চিঠি দিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানিনির্ভর শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।