ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইউনেস্কোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, জলবায়ু সহনশীলতা, যুব উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের মতে, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্প্রতি ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভিজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের এই অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতি থেকে শুরু করে সম্প্রতি টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্পকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনেস্কোর সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি), ভাষা শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ইউনেস্কোর সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভিজে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি দেশের তরুণদের প্রতিভা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় এ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও সংস্কৃতিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরিতে বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।