ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল ২ শতাংশ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল ২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সৃষ্ট উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে চাহিদা কমার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৮ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কা তেলের বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এ পথের নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৯ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একইভাবে ডব্লিউটিআইয়ের দামও ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর। এর জবাবে বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

তবে ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদীর মতে, বর্তমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এক বিশ্লেষণী নোটে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে চাইবে না।

এদিকে কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে কূটনৈতিক সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের ৮০ শতাংশের বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় সরবরাহ আবারও কমে স্বাভাবিক সক্ষমতার ৭০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

 মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আবারও বাড়তে পারে। তবে আপাতত বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ সংকটের চেয়ে বৈশ্বিক চাহিদা কমার ঝুঁকিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।