ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

পশ্চিমা সহায়তায় নতুন গোয়েন্দা সংস্থা গড়ছে জাপান

পশ্চিমা সহায়তায় নতুন গোয়েন্দা সংস্থা গড়ছে জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো একটি কেন্দ্রীভূত জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিসহ পশ্চিমা মিত্রদের সহযোগিতা নিচ্ছে টোকিও।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের শীর্ষ কর্মকর্তারা নতুন গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামো, প্রযুক্তি, জনবল নিয়োগ এবং কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। জাপান ও মিত্র দেশগুলোর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই জাপানের গোয়েন্দা কার্যক্রম বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভক্ত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পুলিশ, কূটনৈতিক সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করলেও তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্বলতাই বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করছে, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সমন্বিত গোয়েন্দা কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত শিল্পকে বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাপানস্থ রাষ্ট্রদূত অ্যান্ড্রু শিয়ারার, যিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে জাপান সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, বলেন, জাপানি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হলো, দেশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কয়েক দশক ধরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো শত শত রুশ কূটনীতিক ও সন্দেহভাজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে। এরপর তাদের একটি অংশ জাপানে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কর্মকর্তাদের দাবি, জাপানের তুলনামূলক দুর্বল গুপ্তচরবৃত্তিবিরোধী আইন এবং উন্নত প্রযুক্তি শিল্পকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

ইউক্রেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ব্যবহৃত প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি উৎপাদিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রয়েছে। টোকিওভিত্তিক এই নেটওয়ার্ক পরিচালনায় রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিট, ‘২০তম অধিদপ্তর’, সক্রিয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, চীনপন্থি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে সম্প্রতি জাপানি ভাষার সংবাদমাধ্যমের ছদ্মবেশে একাধিক ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। জাপান সরকার এটিকেও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাপান। নতুন গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।