প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সরগরম ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম, যেখানে শুধু বর্তমান ফর্ম নয়, ফিরে এসেছে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবলীয় বৈরিতার ইতিহাসও।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের নানা স্মরণীয় অধ্যায়। একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে লিওনেল মেসির একটি বিস্ময়কর পরিসংখ্যান। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’-এর স্মৃতি এখনো ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মনে অম্লান। সেই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ে এবার প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি, যা ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য সান। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে পত্রিকাটি দাবি করেছে, আর্জেন্টিনা যেন ১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছে। বিশেষ করে এমবোলোর লাল কার্ড এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ঘিরে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
অন্যদিকে ডেইলি মেইল গুরুত্ব দিয়েছে মেসির ক্যারিয়ারের এক অনন্য রেকর্ডে। তাদের ভাষ্য, ২০৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও আর্জেন্টাইন মহাতারকা কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেননি। ফলে এবারের সেমিফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ এবং পুরোনো হিসাব-নিকাশেরও এক নতুন মঞ্চ।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে, আজতেকা স্টেডিয়ামের সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে ইংল্যান্ড আবারও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে এবার প্রতিপক্ষ ম্যারাডোনা নন, বরং আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তাদের মতে, এই ম্যাচে ইতিহাসের ভার যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে কঠিন মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষাও।
ইনডিপেনডেন্ট মনে করছে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স খুব একটা দাপুটে ছিল না। তবে হুলিয়ান আলভারেজের গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, কারণ এই লড়াই কেবল ফুটবল নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতারও প্রতীক।
এদিকে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, অবশেষে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাদের মতে, সেমিফাইনালের বাঁশি বাজতেই অতীতের সব স্মৃতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আবেগ আবারও নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠবে।