এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন জুড বেলিংহাম

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই জন্ম দেয় নতুন এক নায়কের। এমন একজন ফুটবলার, যিনি নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। সেমিফাইনালে ওঠার পথে দলের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

নকআউট পর্বে বেলিংহামের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েছেন। দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি শুধু গোলদাতার ভূমিকাই পালন করেননি, বরং কঠিন মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ফিরিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের হাতে।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ড পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরান বেলিংহাম। এরপর অতিরিক্ত সময়ে তাঁর দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় সেমিফাইনালের টিকিট। বড় ম্যাচে চাপ সামলে দলের জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে মানসিকতা প্রয়োজন, সেটিই বারবার দেখিয়েছেন এই ২৩ বছর বয়সী তারকা।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় গোল করেছেন বেলিংহাম। নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি স্পর্শ করেছেন ফুটবল ইতিহাসের বিরল এক মাইলফলক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর এমন কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার তিনি। পাশাপাশি ১৯৫৮ সালে পেলের পর এত কম বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন প্রভাব বিস্তার করার নজিরও খুব কম দেখা গেছে।

তবে বেলিংহামের অবদান শুধু পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা তাকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। তাঁর উপস্থিতিতে পুরো দলের খেলায় আত্মবিশ্বাস ও গতি দুটোই বেড়ে গেছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। চোট কাটিয়ে ফেরায় তাঁর ফিটনেস এবং প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সংশয়ের জবাব দিয়েছেন বেলিংহাম। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, তিনি ততই হয়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের আস্থার প্রতীক।

এবার সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি, অন্যদিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর জুড বেলিংহাম। দুই প্রজন্মের দুই তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।

বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড কত দূর যাবে, তার উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচগুলোতে। তবে এখন পর্যন্ত একটি বিষয় স্পষ্ট, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তির নাম জুড বেলিংহাম।