প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, নতুন এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সেনাসদস্য ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের হাতে আসা গত শুক্রবারের এক চিঠিতে ট্রাম্প জানান, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। হোয়াইট হাউসের মতে, এই নোটিশের ফলে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও ৬০ দিন চালিয়ে যাওয়ার আইনি সুযোগ পাবে প্রশাসন।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ওই আইনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সামরিক অভিযান শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।
গত মে মাসে ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকও কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। চুক্তি লঙ্ঘনের দায় নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
এদিকে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল আদায় করা হবে।
এ ছাড়া ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কিংবা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।