প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৪:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। তবে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংসদে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদনের পরপরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, শাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক রুবেল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলি উল্লাহ।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিটিতে আরও পাঁচটি সদস্যপদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে। সরকার আশা করছে, পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল চাইলে তাদের প্রতিনিধিদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে বিরোধী দল কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানায়। প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার পর তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে, যা সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের পথে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে এই বিশেষ কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের পথ তৈরি হতে পারে। ফলে কমিটির কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।