প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
উত্তর আমেরিকার মাটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামতেই শুরু হয়েছে ফুটবলের নতুন মহাযজ্ঞের অপেক্ষা। এবার সেই অপেক্ষা আরও বিশেষ। কারণ ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ উদযাপন করবে তার শতবর্ষ। আর এই উপলক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসর।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরু হয়েছিল ফিফা বিশ্বকাপের। সেই শুরুর ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শতবর্ষী বিশ্বকাপকে ঘিরে নিয়েছে বিশেষ আয়োজন। প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, সেই আসরের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা এবং লাতিন আমেরিকান ফুটবলের অন্যতম কেন্দ্র প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্যায়ের তিনটি বিশেষ ম্যাচ। এরপর মূল পর্বের আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।
আপাতত ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপেও অংশ নেবে ৪৮টি দল। তবে দলসংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সুইস গণমাধ্যম ব্লুইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ফিফা।
শুধু আয়োজক দেশের সংখ্যাই নয়, ভৌগোলিক বিস্তৃতির দিক থেকেও এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আসর। তিনটি শতবর্ষী ভেন্যুসহ মোট ১৭ থেকে ১৮টি শহরের ২০ থেকে ২৩টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে ম্যাচগুলো। স্পেনের মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্র্যান্ড স্টেড হাসান টু, সব মিলিয়ে অপেক্ষা করছে এক বর্ণিল আয়োজন। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ৮ জুন শুরু হয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বিশ্বকাপ।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপকে দারুণ সফল বলেই দাবি করেছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত 'ফিফা মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন (এমএ) এক্সিকিউটিভস ব্রেকফাস্ট'-এ তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপে প্রায় ৭০ লাখ দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করেছেন। স্টেডিয়ামগুলোর গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই কোটিরও বেশি ডিজিটাল এনগেজমেন্ট হয়েছে, যা ফিফার পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নানা সমালোচনা ও সংশয়ের কথাও তুলে ধরেন ইনফান্তিনো। তাঁর ভাষায়, অনেকেই ধারণা করেছিলেন স্টেডিয়ামগুলো ফাঁকা থাকবে, দর্শকরা ভিসা জটিলতায় পড়বেন কিংবা ৪৮ দলের এই নতুন সংস্করণ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক তার উল্টো।
ইনফান্তিনো বলেন, "টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা অনেক সমালোচনা শুনেছি। বলা হয়েছিল স্টেডিয়াম ফাঁকা থাকবে, ভিসা পাওয়া কঠিন হবে, দলগুলো ভালো খেলতে পারবে না। কিন্তু ফুটবলের জাদু সবকিছু বদলে দিয়েছে। আমরা সব সমালোচনার জবাব মাঠের সাফল্য দিয়েছি।"
কাতারে এক শহরভিত্তিক বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ২০২৬ সালে তিন দেশের মাটিতে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ফিফা। এবার শতবর্ষী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিন মহাদেশজুড়ে আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সংস্থাটি।
ফুটবলের শত বছরের যাত্রাকে উদযাপন করতে ২০৩০ বিশ্বকাপ তাই শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের এক মিলনমেলা। ছয় দেশের আয়োজনে এই বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বর্ণিল উৎসব হয়ে ওঠে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।