এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ , ০২:০২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের নির্দেশে চাকরি হারানোর শঙ্কায় লাখো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) সুবিধাভোগী কয়েক লাখ বিদেশি কর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন নিয়োগকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, যাদের কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের চাকরি অব্যাহত না রাখতে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী চাকরি হারানোর পাশাপাশি বহিষ্কারের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

শুক্রবার দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়োগকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, টিপিএস সুবিধাভোগী হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ ২৪ জুলাই এবং ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৭ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য টিপিএস সুবিধা বাতিলের ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বহাল রাখে। ওই রায়ের পরই প্রশাসন নতুন নির্দেশনা জারি করে।

সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বর্তমানে টিপিএসের আওতায় থাকা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির নাগরিক এবং ৬ হাজার ১০০ সিরীয় নাগরিক সরাসরি প্রভাবিত হবেন। অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের আরও প্রায় ২০ হাজার নাগরিক এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন।

টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, গৃহসংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আগের সরকারগুলো বারবার এই সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে অস্থায়ী কর্মসূচিটি কার্যত স্থায়ী অভিবাসনের পথ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ইউএসসিআইএস কয়েক দফায় কাজের অনুমতির মেয়াদ পরিবর্তন করায় নিয়োগকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রথমে মেয়াদ ১ জুলাই, পরে ১০ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ দেশভিত্তিক নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর আগেই অনেক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।

আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের আইনি উপদেষ্টা জ্যাকব মন্টির মতে, বারবার সময়সীমা পরিবর্তনের কারণে নিয়োগকর্তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তিনি বলেন, টিপিএস পুরোপুরি বাতিল হয়নি, তবে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হলে অকাল ছাঁটাইয়ের ঘটনা কমতে পারত।

হাইতির টিপিএস সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, বৃদ্ধাশ্রম, নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। তাই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে হাইতি ও সিরিয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের টিপিএস সুবিধা বাতিলের পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও ফেডারেল আদালতের মামলার কারণে তা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর প্রশাসনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে জাতিগত বৈষম্যের প্রতিফলন রয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও সতর্ক করে বলেছেন, এসব দেশের অনেক জায়গায় এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তাই এ সময়ে সুরক্ষা সুবিধা প্রত্যাহার করলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

এরই মধ্যে লেবাননের নাগরিকদের জন্য টিপিএসের মেয়াদ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এল সালভাদরের প্রায় দুই লাখ নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।