এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট দিচ্ছেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ আরও জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে দেশটিকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউক্রেন নিজস্ব সক্ষমতায় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে। নিরাপত্তার কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের পরিবর্তে জার্মানি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে উৎপাদিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সমুদ্রবন্দরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর পুতিনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে রাশিয়াকে নতি স্বীকার করানো যাবে না এবং ইউক্রেনকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক চাপ বাড়িয়ে রাশিয়াকে শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা সম্ভব নয়। ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া আরও এলাকা দখল করে নিরাপত্তা বলয় বিস্তৃত করবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পুতিন ন্যাটোভুক্ত বাল্টিক অঞ্চল বা রোমানিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সীমিত হামলার মাধ্যমে পশ্চিমা জোটের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এমন পরিস্থিতি ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের হিসাব। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ রুশ সেনা। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ডনবাস পুরোপুরি দখল করা এখন পুতিনের জন্য কৌশলগতের পাশাপাশি রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয় হয়ে উঠেছে।