ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৪০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত, আলোচনার পথে হাঁটলেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক বিকল্প এখনো টেবিলে রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ আসায় তিনি হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। তার দাবি, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওয়াশিংটন। সিবিএস নিউজ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করবে।

অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ করেছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো দেশ সংঘাতের শিকার হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথাও নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এ ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত জুনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলার দাবি করেছে, আর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছে।

চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।