প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:২১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানী ঘিরে বড় আকারের হামলায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন; রাশিয়ার দাবি, শত শত ড্রোন ভূপাতিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলের দিকে ৬৩৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আবার জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৮০০ ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
১৭ আগস্ট রাত থেকে ১৮ আগস্ট সকাল পর্যন্ত চলা এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো অঞ্চলের ওপর অন্যতম বড় আকাশ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করলেও কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে। মস্কো অঞ্চলে একটি বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন লাগার খবরও পাওয়া গেছে।
বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িক অচলাবস্থা
হামলার কারণে মস্কোর বিমান চলাচল ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ে। নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ রাখা হয়। ফলে বেশ কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে।
রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের আকাশপথে এত বড় সংখ্যক ড্রোনের উপস্থিতি রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, সেটিও সামনে এসেছে।
বাণিজ্যিক অবকাঠামোও ঝুঁকিতে
হামলার সময় মস্কো অঞ্চলে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এটি রাশিয়ার অন্যতম বড় খুচরা গুদামকেন্দ্র। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি রাশিয়ার সরবরাহ ও শিল্প অবকাঠামোতেও হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।
তবে হামলায় স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবিগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
পাল্টা হামলায় ইউক্রেনেও হতাহত
মস্কোর দিকে ড্রোন হামলার একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও হয়েছে। খারকিভ অঞ্চলের পেচেনিহি এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত ১০ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে এপি।
অর্থাৎ যুদ্ধ এখন শুধু সম্মুখসীমায় সীমাবদ্ধ নেই। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের অনেক গভীরে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
ড্রোন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়
রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের শুরুতে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের কৌশল হলো রাশিয়ার সামরিক ও সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মস্কোর ওপর ৬০০-এর বেশি ড্রোন পাঠানোর ঘটনা তাই কেবল একটি বড় হামলা নয়; এটি যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে লন্ডনকে সতর্ক করেছে।
সব মিলিয়ে মস্কোর আকাশে এই ড্রোন হামলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে রাজধানী, শিল্প ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোও এখন ক্রমেই সংঘাতের সরাসরি অংশ হয়ে উঠছে।