প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০৫:৪৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মজুত কমায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে টান; ২০ ও ২৩ আগস্ট নতুন দুটি এলএনজি চালান আসার সম্ভাবনা
দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও চাপ তৈরি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজকের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মজুত কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে টান পড়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, টার্মিনাল পরিচালনায় কারিগরি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চালান পাওয়ার সময়সূচি—সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন এলএনজি চালান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ও ২৩ আগস্ট দুটি নতুন এলএনজি কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চালান জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিল্প খাতে। গ্যাসের চাপ কমে গেলে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমাতে হয়। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সময়সূচি পরিবর্তন, যন্ত্রপাতি কম চালানো কিংবা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ কমে গেলে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের গ্যাস চাহিদার একটি বড় অংশ স্থানীয় উৎপাদন থেকে আসে। কিন্তু দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও অনেকাংশে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, শুধু নতুন নতুন এলএনজি কার্গো আমদানি করে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, পুরোনো কূপের উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগও জরুরি।
সরকারও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এখন নজর থাকবে আগামী দুই এলএনজি চালানের দিকে। এগুলো সময়মতো এসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা।