ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নতুন পে-স্কেলের বাজেট প্রভাব জানতে চাইল আইএমএফ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এবং এর ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ বিভাগ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাস থেকেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এটি কত ধাপে এবং কী পরিমাণে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো মতামত দেয়নি। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে বাজেট, সরকারি ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ঋণ গ্রহণ নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না। তিনি বলেন, নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রতিটি শর্ত দেশের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে।

আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রোববার নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। দিনব্যাপী আটটি বৈঠকের সূচি থাকলেও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল হয়।

দিনের শুরুতে প্রতিনিধি দল অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকার তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচির আওতায় আইএমএফের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। সরকারের মতে, এই অর্থ বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

গত ৯ জুন আইএমএফকে পাঠানো এক চিঠিতে সরকার জানায়, আগের ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন এবং নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার একযোগে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে কর্মসূচিটি বাতিল হয়।

রোববারের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।