প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৬:৩৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
এক বছরে প্রথমবার ১০ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়াল ব্যয়, বাড়তি চাপ পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর
জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। প্রথমবারের মতো বার্ষিক জ্বালানি তেল আমদানির বিল ১০ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়াকে ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে শুধু আমদানি ব্যয়ই বাড়ে না, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও কৃষির খরচও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে পণ্য ও সেবার দামে।
চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৪ শতাংশ বেড়েছিল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা রয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির প্রয়োজনও বাড়ছে। সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা উন্নত হলেও দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানিনির্ভরতা এখনো বড় বাস্তবতা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে আগামী মাসগুলোতেও বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, দেশীয় উৎসের ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।