প্রকাশিত: ১১ আগষ্ট ২০২৬ , ১১:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েনের মধ্যে সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলনে না যাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানানো হলেও, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।
১০ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। একই সঙ্গে তিনি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে দেওয়া দুটি পৃথক আমন্ত্রণের বিষয়টি গুলিয়ে না ফেলতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
এবারের ব্রিকস সম্মেলন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে এবং এই সম্মেলনকে ঘিরে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে অন্য একটি আমন্ত্রণের বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের সুযোগ তৈরি হওয়া এবং সেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যেই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অনুপস্থিতি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন ভারসাম্যের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ ও আলোচনা দুটোই বাড়ছে।