প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি, কয়েক দিন ধরে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম; গ্রামাঞ্চলে ভোগান্তি বেশি
দেশে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে তা ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। আগের দিন একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতে স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির সরবরাহ। গ্যাসের ঘাটতির পাশাপাশি কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানির নিশ্চয়তা না থাকলে সেই সক্ষমতা বাস্তবে কাজে আসে না। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিও প্রকট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া। পায়রা, মাতারবাড়ী, রামপাল, বড়পুকুরিয়াসহ কয়েকটি কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম হচ্ছে। ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। অনেক এলাকায় দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি, সেচ ও স্থানীয় শিল্প কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনভোগান্তিও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার দোকান ও বাজারের সময়সীমা সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহের সংকট বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আবারও বড় চাপে ফেলেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।