প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৮:০৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করলেন ব্যবসায়ীরা
দেশের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পণ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারীরা। তাঁদের আশঙ্কা, কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং সামনের রমজানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আগস্টে গ্যাস সরবরাহে বড় পতন
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, গত কয়েক মাস ধরে দেশের শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যায় পড়েছে। আগস্টে দেশে দৈনিক গড়ে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২ হাজার ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুটে, যা গত এক দশকে আগস্ট মাসের সর্বনিম্ন সরবরাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে গত মাসে জাতীয় গ্যাস সরবরাহেও বড় ধাক্কা লাগে। এক পর্যায়ে সরবরাহ কমে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়।
কারখানা বন্ধ, উৎপাদনে ব্যাঘাত
পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। টিকে গ্রুপের দুই কারখানার একটি দুই মাস ধরে বন্ধ থাকার কথা আলোচনায় জানানো হয়।
সিটি গ্রুপের প্রতিনিধিও বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী কারখানায় সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাজারে সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
রমজানকে সামনে রেখে উদ্বেগ
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো আমদানি, প্রক্রিয়াজাত ও মজুতের কাজ শুরু করতে হবে এখনই।
চিনি, গম ও ডালের মতো পণ্যের জন্য ঋণপত্র খোলা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রম না হলে রমজানের সময় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তবে বাজারে এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেছেন, বর্তমানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থার বাধা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অর্থাৎ এখনই দেশে নিত্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন নয়। কিন্তু শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান সংকট দীর্ঘ হলে উৎপাদন কমে ভবিষ্যতে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
সেপ্টেম্বরেই স্বস্তির আশা
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।