এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:৫২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের ৬ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার ইতোমধ্যে ধীর কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, দুর্বল মজুরি বৃদ্ধি এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও দারিদ্র্য কমানোর গতি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়ে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য উৎপাদন, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে গিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন। সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমতে পারে এবং বিদ্যমান কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পখাতেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০০ থেকে ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বরের জন্য বাংলাদেশকে তুলনামূলক বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG কিনতে হতে পারে। দুটি LNG কার্গোর জন্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি মূল্য দেওয়ার বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু শিল্প নয়, পরিবহন ও কৃষিসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও ব্যয় বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা তাই শুধু কর্মসংস্থান নিয়ে নয়; এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত। সংঘাত দীর্ঘ হলে রপ্তানি, আমদানি, রেমিট্যান্স, শিল্প উৎপাদন এবং সরকারি ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ, LNG আমদানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির জন্য নতুন অর্থায়ন কার্যক্রম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে PKSF-কে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।