এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:৫৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত, হতাহতের খবর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে টানা তৃতীয় রাতেও রাশিয়ার ড্রোন হামলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২৯ থেকে ৩০ আগস্টের রাতেও রাজধানীতে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে অন্তত কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তীব্র হয়েছে। রাতভর হামলার কারণে সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করেছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভসহ বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের কিরিশি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা যুদ্ধের নতুন পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ফলে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে।

কিয়েভের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা। আবাসিক এলাকা, পরিবহন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় হামলা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

বর্তমান হামলাগুলো যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও মাটিতে সামরিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন হামলা যুদ্ধের সামরিক কৌশলকে বদলে দিয়েছে। এখন শুধু সামনের সারির যুদ্ধ নয়, প্রতিপক্ষের গভীর অভ্যন্তরে অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত করার প্রবণতা বাড়ছে।

এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়ছে। অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে।

কিয়েভে সাম্প্রতিক রাতভর হামলা তাই শুধু আরেকটি সামরিক হামলা নয়; এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়িত ও ক্রমবর্ধমান ড্রোনযুদ্ধেরই অংশ। সংঘাত দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানে না গেলে এমন হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।