ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৮:২৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রেমিট্যান্সে জোয়ার, রিজার্ভে নতুন অগ্রগতি

প্রবাসী আয় বাড়ায় শক্তিশালী হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার; আগস্টের প্রথম ২৬ দিনেই এসেছে ২৪৫ কোটি ডলারের বেশি

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মাসিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। এর পর আগস্টেও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ২৬ দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেমিট্যান্সের

গত কয়েক বছরে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। তবে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশের বেশি। এই বিপুল প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ডলারের বাজারে স্বস্তির আশা

রেমিট্যান্স বাড়লে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়ে। এর ফলে আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য কেনা এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে টাকার বিনিময় হার ও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনে আস্থাও বাড়ে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে মোট রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। জুনের শেষে মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন বৈদেশিক দায় পরিশোধ ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে জুলাইয়ের হিসাবে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু রেমিট্যান্স বাড়লেই দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি নিশ্চিত হবে না। রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণের চাপও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করা জরুরি।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করা এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।